ফিলিস্তিন পন্থী বিদেশি শিক্ষার্থীদের যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কার এবং নিজ নিজ দেশে পাঠানোর বিষয়ে যে নির্বাহী আদেশ জারি করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, তাকে চ্যালেঞ্জ করে আদালতে মামলা করেছে আমেরিকান-আরব অ্যান্টি-ডিসক্রিমিনেশন কমিটি (ADC) নামের একটি অধিকার সংস্থা।
ADC মূলত যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত মুসলিম ও আরব বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিকদের অধিকার রক্ষায় নিবেদিত একটি সংস্থা।
গত রোববার নিউইয়র্কের ডিস্ট্রিক্ট আদালতে মামলাটি দায়ের করেছে ADC। মামলার অভিযোগপত্রে ট্রাম্পের এই আদেশকে ‘অসাংবিধানিক’ বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
২০২৩ সালের শেষের দিকে হামাসকে নির্মূল করতে ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক অভিযান শুরু করে ইসরায়েল প্রতিরক্ষা বাহিনী (IDF)।
ফিলিস্তিনের যুদ্ধ ও ভয়াবহ সেই অভিযান বন্ধের দাবিতে এবং ফিলিস্তিনকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার দাবিতে গত বছর যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে ফিলিস্তিনের পতাকা হাতে বিক্ষোভ শুরু করে ফিলিস্তিনপন্থী শিক্ষার্থীরা। দিনের পর দিন চলতে থাকা এই বিক্ষোভে মার্কিন শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত অনেক বিদেশি শিক্ষার্থীও যোগ দেন।
ফিলিস্তিনপন্থী বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার অভিযোগে সম্প্রতি কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মাহমুদ খলিলকে গ্রেফতার করে বিশেষ বন্দিশিবিরে রেখেছে যুক্তরাষ্ট্রের কাস্টমস বিভাগের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। যেখানে তাকে আটক রাখা হয়েছে, সেটি সাধারণত নথিবিহীন অভিবাসীদের জন্য নির্ধারিত।
কিন্তু মাহমুদ খলিল নথিবিহীন অভিবাসী নন, বরং যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাসের অনুমতি রয়েছে তার।
খলিলের গ্রেফতারের পর ওয়াশিংটন, নিউইয়র্ক সিটিসহ বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ শুরু করেছেন ফিলিস্তিনপন্থী রাজনৈতিক ও মানবাধিকার কর্মীরা। এদিকে, শুক্রবার এক সাক্ষাৎকারে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানিয়েছেন, নিরাপত্তা-সংক্রান্ত শঙ্কার কারণে আগামী দিনে আরও অনেক বিদেশি শিক্ষার্থীর ভিসা বাতিলের পরিকল্পনা করছে ট্রাম্প প্রশাসন।
এই পরিস্থিতিতে ট্রাম্পের আদেশকে চ্যালেঞ্জ করে আদালতে মামলা করল ADC।
সূত্র: রয়টার্স
লেখিকা : আনিশা সাইয়ারা নদী
Read More : রোহিঙ্গাদের সহায়তা বন্ধ করতে চেয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র!